Hazi Abdul Quddus School And College

হাজী আব্দুল কুদ্দুছ স্কুল এন্ড কলেজ

স্থাপিত: ১৯৯৪, বিদ্যালয় কোড- ৬০৬৮, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

blog_2

একটি ভালো CV লিখার সময় কোন কোন বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত?

গ্রাজুয়েশন শেষ হলেই শুরু হয় চাকরি খোঁজাখুঁজি। পত্রিকার পাতা খুলেই আমরা খোঁজ নেই কোথায় কোন পোস্টটা আমাদের জন্য “অ্যাপ্লিকেবল” অথবা জব সাইটগুলোতে রোজ একবার করে তো ঢুঁ মারা হয়ই। কিন্তু শুধু কি এগুলো করলেই চাকরি মিলবে? চাকরি পাওয়ার জন্য চাই পূর্ব প্রস্তুতি আর এই প্রস্তুতির প্রথম ধাপটাই হচ্ছে সঠিকভাবে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করা যা বায়োডাটা বা সিভি হিসেবেও পরিচিত। কোনো চাকরিতে আবেদন করার আগে পোস্ট বা ই-মেইল করে আমাদের সিভি পাঠাতে হয়। এই সিভি দেখেই কিন্তু একজন ব্যক্তির যোগ্যতা সম্পর্কে নিয়োগদাতারা জ্ঞাত হন এবং পরবর্তীতে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকেন। তাই সিভি তৈরিতে হতে হবে বিশেষভাবে যত্নশীল। জীবনবৃত্তান্ত তৈরির ক্ষেত্রে কিছু সাধারন নিয়ম বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো।
সংক্ষিপ্ত করুন-
অনেকে আছে অপ্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে জীবনবৃত্তান্ত বড় করেন, এটা কখনোই উচিত নয়। রেফারেন্সসহ জীবনবৃত্তান্ত সর্বোচ্চ তিন পৃষ্ঠা হতে পারে , এমনি তা দুই পৃষ্ঠার মধ্যে হলেই ভালো। সিভি যতটা সম্ভব সক্ষিপ্ত হওয়া উচিত। তাই প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপুর্ন তথ্য সম্বলিত সিভি তৈরি করুন।
কতটুকু দীর্ঘ হবে জীবনবৃত্তান্ত-
• যারা অল্প অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তাদের জন্য ২-৩ পৃষ্ঠাই যথেষ্ট ।
• যাদের ভাল অভিজ্ঞতা আছে তাদের ৩-৪ পৃষ্ঠাই যথেষ্ট ।
সিভিতে ছবি সংযুক্তকরণ-
সিভিতে ছবি সবসময় ডানদিকে স্ট্যাপ্লার পিন বা জেমস ক্লিপ দিয়ে আটকে দিবেন। আর ছবিটি যেন সদ্য তোলা হয়, ৬ মাসের বেশি পুরনো ছবি না দেয়াই ভালো। ছবি তোলার সময় ফরমাল পোশাক পরে ছবি তুলবেন। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড যেন খুব বেশি রঙচঙে না হয়, সাদা বা হালকা নীল হলে ভালো হয়।
ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ বা পেশাগত উদ্দেশ্য-
অনেকেই ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ কলামটি নানান কথায় ভরিয়ে রাখেন। অথচ সুস্পষ্ট করে অল্প কথায় উদ্দেশ্য লেখার নিয়ম। ক্যারিয়ার অবজেক্টিভে আপনি কোন পেশায় নিজের কোন দক্ষতার বলে উন্নতি করতে চান এটা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা-
আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার কলামটি স্পষ্টভাবে বিস্তারিত লিখুন। আপনার এসএসসি, এইচএসসি ও অনার্স/মাস্টার্স পরীক্ষার পাশের সাল, কোন স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেছেন, জিপিএ/ডিভিশন এর পয়েন্ট বা বিভাগ অবশ্যই উল্লেখ করবেন।
অভিজ্ঞতার কলামে কোথায় আগে চাকরি করে এসেছেন সেই প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, আপনার পদবী, চাকরির সময়কাল এবং সবচেয়ে জরুরি যে বিষয়টি- আপনার কাজের দায়িত্ব বা আপনি কি কাজ করতেন তা বিস্তারিত লিখবেন।শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা জীবনবৃত্তান্তের শুরুতেই লিখা উচিত।
অন্যান্য গুণাবলি বা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস-
আপনার মধ্যে পড়ালেখার পাশাপাশি অন্য কি কি গুণাবলি আছে তাঁর উল্লেখ থাকলে ভালো। অন্য গুণাবলির মধ্যে থাকতে পারে-
– আপনি অতিরিক্ত চাপের মধ্যেও কাজ করতে পারেন
– আপনার মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি আছে
– আপনি যে কোন পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারেন
– আপনি সৎ গুণাবলীর অধিকারী ও কাজের প্রতি যত্নশীল ইত্যাদি
এক্সট্রা কারিকুলার বলতে বোঝায়, আপনি পড়ালেখার পাশাপাশি আর কি কি করেছেন। আজকাল সব প্রতিষ্ঠানেই এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসের উপর জোর দেয়া হয় কারণ এ থেকে মানুষের ব্যাক্তিত্ব প্রকাশ পায়। এগুলো হতে পারে-
– বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা বা নতুন নতুন জায়গা পরিভ্রমণ করা
– বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন
– সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত
– লেখালেখিতে আগ্রহ ইত্যাদি
আপনার আগ্রহ বা শখ-
এরপর আপনার শখ বা অবসর সময়ে কি করেন তা উল্লেখ করুন। এক্ষেত্রে একটু চালাকি করতে হবে। সবসময় চাকরীর সাথে সংযুক্ত কোন শখ উল্লেখ করুন, যেমন আপনি যদি মার্কেটিংয়ের কোন চাকরীতে আবেদন করেন তবে আপনার শখ আড্ডা দেওয়া হলে ভাল। কারন আপনি আড্ডা দেন এর অর্থ আপনার নেটওয়ার্ক ভাল, আপনি ভাল যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে পারবেন। শেষে যুক্ত করুন আপনার যদি কোন অতিরিক্ত এবং উল্লেখযোগ্য কার্জকলাপ থাকে।
রেফারেন্স বা পরিচিতি-
সর্বশেষে আপনার রেফারেন্স যুক্ত করুন। যদি আপনার অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে আপনার কর্মক্ষেত্রে কোন গুরুত্বপূর্ণ পদের কারও রেফেরেন্স দিন,দেয়ার আগে অবশ্যই যার রেফারেন্স দিচ্ছেন তাকে জানিয়ে দিন, নাহলে যদি তাঁর সাথে কোনভাবে যোগাযোগ করা হয় তাহলে বিপদে পরতে পারেন।
কাভার লেটার-
অবশ্যই এবং অবশ্যই আপনার সিভির সাথে একটা কাভার লেটার পাঠাবেন। এখানে আপনি বলতে পারেন সেই পোস্টটা সম্পর্কে যে পোস্টে আপনি আবেদন করছেন এবং কিভাবে আপনি এই চাকরির বিজ্ঞপ্তি খুজে পেলেন। এটা খুব বেশি বড় করবেন না আবার খুব বেশি ছোট ও করবেন না।
এবার জেনে নিই জীবনবৃত্তান্তের সঠিক বিন্যাস কিভাবে করবেন তা।
ফরমেট বা আকার-
• ১০-১২ পয়েন্ট এর ফন্ট ব্যাবহার করবেন এবং ফন্ট যেনো খুব পেঁচানো ডিজাইনের না হয়, সরল ফন্ট ব্যবহার করবেন যেমন- টাইমস নিউ রোমান অথবা এরিয়াল ফন্ট।
• অবশ্যই ভদ্র ও সহজ ভাষার ইংরেজি ব্যাবহার করবেন। এসএমএসের সংক্ষিপ্ত ভাষা অথবা অশোভন আচরণ প্রকাশ পায় এরকম কোনো স্লাং ব্যবহার করবেন না।
• মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইলে বা গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন দিতে সাব-হেডিং বা বুলেট লিস্ট ব্যাবহার করুন ।
• পর্যাপ্ত পরিমান খালি জায়গা রাখুন একটা হেডিং বা মার্জিনের মধ্যে। পুরো বৃত্তান্তে কলাম এর বিন্যাস ঠিক রাখুন।
যদি খামে পোস্ট করেন-
বাদামী,সাদা বা হলুদ রঙের খাম হতে পারে। তবে রঙিন বা এয়ার মেইল জাতীয় খামে পাঠানো উচিত নয়। সতর্কতার সঙ্গে সমান ভাঁজ করে নিতে হবে আপনার সিভিটি যাতে খামের ভেতর অনাকাঙ্খিতভাবে ভাঁজ হয়ে না থাকে। খামের ডান পাশে স্পষ্টাক্ষরে প্রাপক এবং বাম পাশে আবেদনকারী কিংবা প্রেরকের নাম লিখতে কালো কালির কলম ব্যবহার করাই ঠিক হবে।
সিভি মেইল করা হলে-
সিভি যদি মেইল করে পাঠান তাহলে ভালো করে মেইল পাঠানোর ঠিকানাটা চেক করে নিবেন যেন ভুল না হয় তাহলে আপনার মেইল ফেরত আসবে। সাবজেক্ট-এর ঘরে কোন পোস্টের জন্য আবেদন করছেন তাঁর উল্লেখ থাকতে হবে। আর মেইলের বডিতে ভদ্রভাবে সম্বোধন করে আপনার মেইল এটাচমেন্টটা চেক করতে বলবেন এবং সবার শেষে ধন্যবাদান্তে আপনার নাম উল্লেখ করবেন।

মন্তব্য করুন

comments